বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে পেঁৗছেছে। এ কারণে রুপা খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবও ধাতুটির বিনিয়োগ চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী তিন বছরের জন্য রুপার মূল্য নিয়ে দেয়া পূর্বাভাস সংশোধন করেছে ব্রিটিশ বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি। খবর রয়টার্স।
প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রুপার গড় দাম দাঁড়াতে পারে আউন্সপ্রতি ৩৫ ডলার ১৪ সেন্ট, আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ৩০ ডলার ২৮ সেন্ট। এর আগে এইচএসবিসি ২০২৬ সালে প্রতি আউন্স রুপার দাম ২৬ ডলার ৯৫ সেন্ট হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। সর্বশেষ প্রাক্কলনে তা সংশোধন করে আউন্সপ্রতি ৩৩ ডলার ৯৬ সেন্ট হতে পারে বলে জানিয়েছে। এছাড়া ২০২৭ সালে প্রতি আউন্স রুপার গড় দাম হতে পারে ৩১ ডলার ৭৯ সেন্ট, আগে দেয়া পূর্বাভাসে যা ছিল ২৮ ডলার ৩০ সেন্ট।
এইচএসবিসি জানিয়েছে, রুপার সাম্প্রতিক দামের ঊর্ধ্বগতি স্বর্ণের ব্যাপক মাত্রায় মূল্যবৃদ্ধির ফলাফল। চাহিদা ও সরবরাহের পারস্পারিক সংযোগের মত মৌলিক বিষয়গুলো এ সময় ধাতুটির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে না। মূলত স্বর্ণের রেকর্ড উচ্চ মূল্যের কারণেই রুপার বিনিয়োগ চাহিদা বেড়েছে।
প্রতিবেদনে ব্যাংকটি আরো জানায়, শিল্প খাতে টানা চার বছরের প্রবৃদ্ধির পর চলতি বছর রুপার চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। যদিও এ চাহিদা হ্রাস হতে পারে সীমিত আকারে।
প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সৌরবিদ্যুৎ (ফোটোভোল্টাইক) ও ইলেকট্রনিকস খাতে রুপার চাহিদা পুনরুদ্ধার হতে পারে। অন্যদিকে উচ্চ মূল্যের কারণে গহনা ও সিলভারওয়্যারের চাহিদা আরো কমার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী বছর কয়েন ও বারের চাহিদাও আগের উচ্চ মূল্য এবং শক্তিশালী ক্রয়ের কারণে চাপের মুখে থাকবে।
এদিকে খনি থেকে রুপা উত্তোলন ধীরগতিতে বাড়ছে। ব্যাংকের সাপ্লাই-ডিমান্ড মডেল অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্ববাজারে রুপার ঘাটতি দাঁড়াবে ২০ কোটি ৬০ লাখ আউন্স, যা ২০২৪ সালের ১৬ কোটি ৭০ লাখ আউন্স ঘাটতির চেয়ে বেশি। ২০২৬ সালে এ ঘাটতি কমে ১২ কোটি ৬০ লাখ আউন্সে নেমে আসতে পারে।
এছাড়া এ বছর ডলারের বিনিময় হার কমে যাওয়া রুপার মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কও সামনের দিনগুলোয় রুপার দামে প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছে এইচএসবিসি।